1. webprominhaz@gmail.com : Admin :
  2. Aktar@gmail.com : AKTAR hosen : AKTAR hosen
  3. amirbinsultan95@gmail.com : Amirbin Sultan : Amirbin Sultan
বিজ্ঞপ্তি :
  • পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
শিরোনাম :
কক্সবাজার জেলার কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মনোনীত হলেন পুসাহ’র উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত | দৈনিক জাগ্রত বিবেক ঢাকাস্থ বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির ১ লাখ টাকা অনুদান তাকওয়া ফাউন্ডেশন বরুড়া উপজেলা শাখার লাশ দাফন টিম ২ এর ৩৫ তম গোসল কাফন জানাজা দাফন সম্পন্ন। আত্মপরিচয় ও আমাদের হীনমন্যতা | মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীন টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা ওরাই আপনজন সংগঠন | দৈনিক জাগ্রত বিবেক সমাজ সংস্কার-৩য় পর্ব | আব্দুল আজিজ অপসংস্কৃতি রোধে চাই সম্মিলিত প্রয়াস: মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন | জাগ্রত বিবেক কী পড়বো? তোফায়েল গাজালি | জাগ্রত বিবেক কৃতিত্বের মানদণ্ডে শেখা না কি শেখানো: রমিজ উদ্দিন

কৃতিত্বের মানদণ্ডে শেখা না কি শেখানো: রমিজ উদ্দিন

  • আপডেট টাইম : Friday, June 25, 2021
  • 128 বার পড়া হয়েছে

কৃতিত্বের মানদণ্ডে শেখা না কি শেখানো

অন্যকে শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে নিজে শিক্ষা গ্রহণ করার মধ্যে আনন্দ বেশি। মানুষ অন্যকে শিখাতে বেশি পছন্দ করে। যতটুকু না পছন্দ করে, তারচেয়ে বেশি কৃতিত্ব মনে করে। তাই যত্রতত্র অন্যকে শেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি আমরা। যত্রতত্র শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রটা অনলাইন এবং তথ্যপ্রযুক্তি ভালোই তৈরি করতে পেরেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে মানুষ যখন-তখন, যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে লাইভ করে। নীতি বাক্যের ফুলঝুরি ছড়ায়। আমি মনে করি অন্যজনকে শেখানোর মধ্যে কৃতিত্ব নেই, বরং নিজে শেখার মধ্যে কৃতিত্ব নিহিত।

শেখার মধ্যে আনন্দ কেন বললাম? ধরে নিন আপনি একটা বিষয় জানেন না। আপনি যে জানেন না, তা কতজন মানুষ জানবে? আপনি যদি চুপিসারে আপনার অজানা বিষয়টা শিখে নেন কিংবা অন্যজনের কাছ থেকে শিখতে পারেন, তাহলে নিশ্চিত আপনার উপলব্ধিতে আনন্দের ঢেউ খেলা করে যাবে৷ ধরে নিন আপনি একটা বিষয় ভালোই জানেন কিন্তু মানেন না। আপনার জানা সত্ত্বেও নিজে মান্য না করা বিষয়টি যখন অন্যজনকে শেখাতে যাবেন, চারদিকে হাসির একটা রোল পড়ে যাবে। তাচ্ছিল্যের হাসি। হয়তো দৃশ্যত কোনো মানব হে-হে করে হাসবে অথবা অদৃশ্য মানব তাচ্ছিল্য স্বরে আপনাকে অবজ্ঞা করবে। এখানে অদৃশ্য মানব বলতে আপনার বিবেক। বিবেক কখনও কখনও আপন কর্মের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে প্রতিবন্ধকতার জাল বুনে।

নিজের জানা বিষয়ে নিজের আমল নেই, অথচ অন্যজনকে শিখিয়ে দিব্যি কৃতিত্বের ঝুড়ি পরিপূর্ণ করে চলছে কিংবা অন্যজনকে শিখিয়ে অর্থ ও খ্যাতি হাতিয়ে নিয়ে দারুণ সুখে দিনাতিপাত করছে- এমন মানুষের সংখ্যা অল্প নয়। আপনি লক্ষ করলে দেখবেন, আমাদের সমাজে এরাই – সম্পদশালী, এরাই প্রভাবশালী আবার এরাই গুরুর সম্মানীয় স্থান দখল করে আছেন।

অন্যজনকে শেখাতে গেলে কিছু বৈশিষ্ট্যের দরকার পড়ে। আপনাকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। মানতে হবে। আপনি যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে শেখাতে যান, তাহলে আপনাকে ডিগ্রিধারী হতে হবে। আপনি যদি মাঠ পর্যায়ে শিখাতে যান, তাহলে আপনাকে বাকশক্তিসম্পন্ন, প্রত্যুৎপন্নমতি, সুন্দর বাচনিক শিল্পী, সুললিত কণ্ঠধারীসহ কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। কিন্তু আপনি যখন শিখতে যাবেন তখন আপনার কোনো বৈশিষ্ট্যের দরকার পড়বে না। কেবল একটা মনোভাব দরকার, আমি জানি না- তাই আমি শিখছি।

শিক্ষা বলতে আমরা কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাটাকেই বুঝি। আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাটা আসল শিক্ষা নয়। এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতা। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা পালন করে থাকি। যেমন- বিয়ের আসরে খাবার সামনে নিয়ে বসে আছে সবাই। নতুন জামাই মুখে দিলে তারপর অন্যরা মুখে তুলবে। অথবা খাবার সামনে নিয়ে বসে আছে সবাই। ফটোসেশান হবে। নতুন জামাই মুখে দেয়ার পর কিংবা ফটোসেশানের পর অন্যরা আর বসে থাকে না। বসে থাকলে পেট ভরবে না। ফটোসেশান বা নতুন জামাই প্রথম মুখে দেয়াটা কেবল আনুষ্ঠানিকতা। এই আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে খিদে মিটে না। তৃপ্তি মিলে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

শিখতে হয় প্রতিটি ক্ষেত্রে। শেখার স্থান সর্বত্র। শেখার বয়স অনির্ধারিত। আমৃত্যু বলা হয়। আপনি চায়ের দোকানে বসছেন। নাস্তা কিংবা চা মুখে পুরতে পুরতে দোকানের বয়-ছেলে কিংবা কারিগরের দিকে দৃষ্টি রাখবেন। দেখবেন আপনি তার থেকেও কিছু না কিছু শিখতে পেরেছেন। অথচ সে পড়াশোনা করেনি।

এভাবে বাজারের সবজিওয়ালা, মাছওয়ালা থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, ডাক্তার, কবিরাজ, কৃষক, শ্রমিক সব শ্রেণির মানুষের আচার-আচরণ, চালচলন, কথা বলার ভঙ্গি, লেনদেন ইত্যাদিতে আপনার শেখার বিষয় আছে।

এই যে বাস্তবিক জীবন থেকে শেখা- এখানে দুই ধরনের শিক্ষা আপনি পাবেন। ভালো এবং মন্দ। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষায় মন্দ শিক্ষা নেই বললে চলে। কেবল ভালোগুলো শেখায়। বাস্তব জীবনের শিক্ষায় ভালো আর মন্দ দুটিই আছে। এ জগতের শিক্ষার্থীরা ভালো ও মন্দ দুটিরই উপলব্ধি অর্জন করতে পারে। তবে সবাই সবকিছু গ্রহণ করে না। কেউ ভালোটি গ্রহণ করে আর কেউ মন্দটি। তবে বুদ্ধিমানের পরিচয় হবে ভালোটি গ্রহণ করা এবং মন্দটি বর্জন করা।

বেশ কদিন আগের কথা। বন্ধুবান্ধব মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। এর মধ্যে দুজন বন্ধু- একজন আদেল অন্যজন নাদের ( দুটিই ছদ্মনাম)। আদেলের সাথে নাদের একটা অন্যায় আচরণ করে ফেলছে। হয়তো জেনে করছে অথবা মনের অজান্তে। যেটাকে আমরা ভুল বলি। এ অন্যায় আচরণের ফলে সবার সামনে আদেল নাদেরের সাথে কি যা-তা ব্যবহার না করলো! একেবারে তুলকালামকাণ্ড ঘটালো। যে বন্ধু অন্যায় করেছে, সে একেবারে চুপ। যেন কিছুই হয়নি।

আমরা যারা এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম আমরা হায়-হায় করতে করতে স্থান ত্যাগ করলাম। ধরে নিলাম, নাদের প্রতিশোধ নেবে। সামান্য অপরাধের দরুন এ অপমান সে মুখ বুঝে সহ্য করবে – তেমন তেজহীন ছেলে সে নয়। তাকে আমরা হাড়ে হাড়ে চিনি।

ঠিক এক সপ্তাহ পরের ঘটনা। আদেল ভারি এক বিপদে পড়ে। এমন এক বিপদ, যে ঘটনা প্রকাশ পেলে আদেলের আত্মসম্মান, ব্যক্তিত্ব, অর্জন সব ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। সেদিন আদেলের সেই বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছিল নাদের। নাদের সব একাই হ্যাণ্ডল করলো। এমনভাবে সমাধান করলো – কি ঘটেছে তা একটা পিঁপড়েও টের পায়নি। আগবাড়িয়ে নাদেরও কাউকে বলতেও যায়নি।

হ্যাঁ, নাদের ঠিকই অপমানের প্রতিশোধ নিয়েছে। তবে ঘৃণার মাধ্যমে নয়, ভালোবাসার মাধ্যমে। মন্দ আচরণ দিয়ে নয়, উত্তম আচরণ দিয়ে। এবারও আমি শিখলাম। এটি প্রেক্টিক্যাল শিক্ষা। এমন শিক্ষা খুব কমই চোখে পড়ে। খুব কমই ঘটে। কিন্তু যে অল্প কটি ঘটে এবং আমরা প্রত্যক্ষ করি, তা থেকেও আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি না। অথচ এমন দুষ্প্রাপ্য, অমূল্য ঘটনাকে ব্যবহার করে কিংবা প্রচার করে অনেকে অনেক কিছু উপার্জন করি।

দিন দুয়েক আগে একটা ভাইরাল ভিডিও দেখলাম। ভিডিওতে দেখা গেছে একটা বানর ও একটা মুরগির মধ্যে দারুণ সখ্যতা। তাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া। সেই সখ্যতা এবং বোঝাপড়াই তাদের মধ্যে চমৎকার একটা বন্ধন তৈরি করেছে। সেই বন্ধনের নাম- ভালোবাসা। এ ভালোবাসায় জাত-শ্রেণি ব্যবধান নেই। ধর্ম বর্ণের তফাৎ নেই। কেবল আনুগত্য আছে এবং পরস্পরকে প্রাধান্য দেয়ার সুন্দর একটা দৃশ্য আছে। এই আনুগত্য এবং অন্যজনকে প্রাধান্য দেয়ার মানসিকতা- এসব ভিন্ন জাতের প্রাণির মধ্যে দারুণ ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। যা বুদ্ধিমান প্রাণি- মনুষ্য জাতি প্রচার করছে, ভাইরাল করে প্রশংসায় মেতেছে।

এই যে বনের পশু থেকেও শেখা- এটার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। এটা বাস্তবিক শেখা। যেটাকে আমরা চোখে আঙুল ঠেকিয়ে শেখানো বলি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমরা কতজন শিখতে পারি? শিখতে না পারার কিংবা শিখলেও নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে না পারার অন্যতম কারণ হলো আমাদের মধ্যে নোংরা একটা বৈশিষ্ট্য আছে। ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য বলা যায়। আত্ম-অহামিকা, দাম্ভিকতা। যেটা ভালোবাসার শত্রু। এটি আমাদের অর্জন, কৃতিত্ব সবকিছুকে মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে দেয়।

এভাবে সবকিছু থেকে শেখা যায়। শেখা যায় প্রকৃতি থেকেও। এমন শেখাতেই আনন্দ নিহিত। তাই তো কবি সুনির্মল বসু চমৎকার একটা কথা বলছিলেন –
‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র,
নানানভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র।

লেখক:

মুহাম্মদ রমিজ উদ্দিন, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Amir Hossen
Customized BY NewsTheme