1. webprominhaz@gmail.com : Admin :
  2. Aktar@gmail.com : AKTAR hosen : AKTAR hosen
  3. amirbinsultan95@gmail.com : Amirbin Sultan : Amirbin Sultan
বিজ্ঞপ্তি :
  • পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
শিরোনাম :
কক্সবাজার জেলার কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মনোনীত হলেন পুসাহ’র উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত | দৈনিক জাগ্রত বিবেক ঢাকাস্থ বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির ১ লাখ টাকা অনুদান তাকওয়া ফাউন্ডেশন বরুড়া উপজেলা শাখার লাশ দাফন টিম ২ এর ৩৫ তম গোসল কাফন জানাজা দাফন সম্পন্ন। আত্মপরিচয় ও আমাদের হীনমন্যতা | মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীন টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা ওরাই আপনজন সংগঠন | দৈনিক জাগ্রত বিবেক সমাজ সংস্কার-৩য় পর্ব | আব্দুল আজিজ অপসংস্কৃতি রোধে চাই সম্মিলিত প্রয়াস: মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন | জাগ্রত বিবেক কী পড়বো? তোফায়েল গাজালি | জাগ্রত বিবেক কৃতিত্বের মানদণ্ডে শেখা না কি শেখানো: রমিজ উদ্দিন

সমাজ সংস্কার ২য় পর্ব -আব্দুল আজিজ

  • আপডেট টাইম : Friday, June 18, 2021
  • 76 বার পড়া হয়েছে

সমাজ সংস্কার। ২য় পর্ব
__আব্দুল আজিজ

আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ ” নিরপেক্ষ” শব্দটি। যে শব্দটির শাব্দিক অর্থ হলো যে কোন পক্ষের নয়। এখানে আমার প্রশ্ন হলো একজন মানুষ কি করে নিরপেক্ষ হতে পারে ? বাড়ির বউ শাশুড়ির ঝগড়ায় স্বামী বলে যে মানুষটা, সে কি কোন পক্ষে কথা না বলে পারে ?
সমাজ ব‍্যবস্থা ? রাজনৈতিক দল ? সব যায়গায় যখন পক্ষ নিয়ে চলতে হয়, ধর্মের বেলায় কেন এই তোতা পাখির বুলি ধর্ম নিরপেক্ষতা চাই ?
আসলে কেহ-ই ধর্মের ব‍্যপারে নিরপেক্ষ নয়। কেননা কোন সনাতন ধর্মের লোক যখন বুঝাতে চায় ইসলাম ধর্ম বা অন‍্য ধর্মে আমার সমস‍্যা নাই। এটা ধর্ম নিরপেক্ষতা নয়।
যখন কোন মুসলিম বুঝাতে চায় অন‍্য ধর্মে আমার সমস‍্যা নাই। এটা ধর্ম নিরপেক্ষতা নয়।
কারন সবাই সবার ধর্ম মানছে। যখন কেহ কোন ধর্ম মত জীবনযাপন করে তখন সে একটি ধর্মের পক্ষে চলে গেলেন।
তো যখন কেহ একটি ধর্মের পক্ষে চলে গেলেন। তখন সে কিভাবে নিরপেক্ষ থাকলেন ??

কিন্তু সমাজের এক শ্রেনীর মানুষ যারা সাধারনত অন্ধ কারিকুলামে বিশ্বাসী তারা যতটা সহজে কিছু কথা গিলে নেয়, ঠিক ততটা সহজে কথার অর্থ বুঝে না। তবে বুঝার চেয়ে বলতে আরো তিন লাইন বেশি।
যার জন‍্য আমাদের সমাজের পন্ডিতন‍্য লোকজন আমাদেরকে ডাল দিয়ে খিচুরি বানিয়ে খাওয়ায় তারপর বলে ডাল মে কুচ কালা হে।
এইসব যন্ত্রণা থেকে পরিত্রান পেতে হলে আমাদেরকে শুরুর থেকে শুরু করতে হবে। যেমন আমাদের যে কোন বিষয়ে সাপোর্ট দেয়ার আগে ভালো করে জেনে নেয়া দরকার আসলে আমরা নিরপেক্ষ বলতে কি বুঝি ? আর এর প্রধান অর্থ কি ?

তবে সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো যখন কোন মুসলিম ধর্ম নিরপেক্ষতার পক্ষে সাফাই কথা বলে। তখন তার কাছে জানতে ইচ্ছে করে,
তোমার আল্লাহর প্রতি কি তোমার বিশ্বাস নাই ?
আল্লাহ্ কি তোমার জীবন দানকারী নন?
আল্লাহ্ কি তোমার রিযিক দাতা নন ?
আল্লাহ্ কি তোমাকে হেফাজতকারী নন ?
আল্লাহ্ ন‍্যায় বিচারক নন ?
আল্লাহ্ কি মহান স্রষ্টা নন ?
এমন হাজারো প্রশ্নের,

যদি উত্তর না হয় , তবে বুঝতে হবে তাকে মোনাফেকি রোগে গ্রাস করে ফেলেছে।

আর যদি হ‍্যাঁ হয়, তবে বলতে হয় কা,র ভয়ে নিজেকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে ?

আমার আল্লাহ্ রব্বে আ, লা।
সুতরাং ভয়ের কিছু নাই।
তবে ভয়ের কিছু নাই এই শব্দটা দিন দিন পুস্তক বন্দী হয়ে যাচ্ছে।
তার কারন হলো আমাদের ঈমান দুর্বল হতে হতে এমন যায়গায় এমন অধঃপতনে পতিত হয়েছে, কোন মু,মীন দেখলেও নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি।
মু,মীন বলতে কোন মানুষ পৃথিবীতে আজ-ও আছে না কি ?
কারণ পরিষ্কার। সে নিজে যখন সুদ ঘুষ গান-বাজনা ব‍্যাভিচার নানান ধরনের অন‍্যায় কাজে জড়িত থাকে, তখন অন‍্যকে নিজের সারিতে দাঁড় করিয়ে ভাবতে থাকে আমি-ও মানুষ সে-ও মানুষ। আমার যেমন আর্থিক সমস‍্যা আছে। হয়তো তাদের ও আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। কেন না টাকা কা,র চাই না ??
তারপর শারীরিক উত্তেজনা সবার শরীরে আছে। তো ……..??
এই ধরনের বাজে ভাবনায় নিজে নিমজ্জিত হয়ে অন‍্যকে নিয়ে সন্দেহের বসে নানান ধরনের গিবত চিন্তা করতে থাকে। তার সাথে যোগকরে আমি কি বলদ ? আমি কি কারো থেকে সাধারণ জ্ঞানে পিছিয়ে ?
নিজেই নিজের গৌরব করে, যা বর্তমান সময়টাকে ধিরে ধিরে ধ্বংসের দাড় প্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।
যেখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
এর উপায় নিজেকেই বের করতে হবে।
তার প্রধান কারন হলো আমাদের মনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ভালো কে ?
এই ভালো যে কে, সে কথা আপনাকে আমাকেই খুঁজে নিতে হবে। তবে প্রশ্ন হতে পারে আমরা তো অজ্ঞ তাই কিভাবে খুঁজবো ?

এই ব‍্যপারে আমার ভাবনা হলো ?
আপনারা দেখে থাকবেন বড় বড় সুপার মার্কেট যেখানে বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে এই মার্কেটে সব পাবেন ।
তো মার্কেটে সব পাবেন বলতে এক দোকানে সব পাবেন না । হরেক রকম সামানের জন‍্য হরেক রকম দোকানে যেতে হবে।
যেমন লক্ষ টাকার মুদি দোকানে আপনি এক গজ কাপর পাবেন না।
আবার কোটি টাকার কাপরের দোকানে এক প‍্যাকেট চানাচুর পাবেন না।
কোটি টাকার চাওলের দোকানে এক বস্তা সিমেন্ট পাবেন না। আবার কোটি টাকার রড সিমেন্টের দোকানে এক কেজি চাওল পাবেন না।

একটু চিন্তা করলে সহজেই বুঝতে পারবেন।
আমার কি দরকার? কার কাছে যাওয়া জরুরি?
ইসলাম সময় সাপেক্ষে এতটাই সহজ যা, সাধারণ লোকের কল্পনার বাহিরে।
ইসলাম আমাদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের তাগিদ করেছে। যা বিনে পঁয়সায় কোন ধরনের খরচ ছাড়া। ভেবে দেখুন তো যদি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতো বার মাসের তের পার্বনে বছরের নতুন নতুন ফল সংগ্রহ করে পূঁজোয় দেয়া লাগতো ?? কেমন হতো তখন ?
তারপর যদি সন্দেহ থাকতো ভগবান কি এই ফল খায় ?
কিন্তু আমাদের ইসলাম আছ অবধি নতুন নতুন বিষয়ে বিজ্ঞানবোদ্ধাদের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত সত‍্যের উন্মোচন করে যাচ্ছে। মাঝে মধ‍্যেই খবর আসে ইসলামে বা কোরআনে ভুল খুঁজতে এসে ইসলাম গ্রহন করছেন। এইসব কথা আমাদেরকে নতুন করে ধর্মপরায়ন হতে সাহায‍্য করে।
তো কেন পারছি না কার কাছে কি আছে তা খুঁজে নিতে ?
যেখানে মহান আল্লাহ্ আমাকে দেখার জন‍্য চোখ শোনার জন‍্য কান বলার জন‍্য মুখ ইত‍্যাদি দরকারি সব দিয়েই পাঠিয়েছেন।
তাহলে আমি যখন আগুন চিনলাম বাতাস চিনলাম গরম চিনলাম ঠান্ডা চিনলাম সুখ চিনলাম দুঃখ চিনলাম।
সে আমি কি করে ইসলামের কাছে এসে ঈমানদার মু,মীন চিনলাম না ?
বেদ্বীন চিনলাম না মোনাফেক চিনলাম না
মসজিদ চিনলাম না মন্দির চিনলাম না। কোরআন চিনলাম না হাদীস চিনলাম না।

কেন? ধর্মের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ?
আসলে আমাদেরকে অলসতা আর অবহেলা আমাদেরকে দিন দিন ধর্মকর্ম থেকে দুরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ঢুকে পরছি অন ওয়ে রোডের মতো ফিরতে না পারার পথে।

কেউ ভয় পাচ্ছি সমাজ, কেউ ভয় পাচ্ছি দলবল, কেউ ভয় পাচ্ছি আত্মসন্মান।
নানান দুরভিসন্ধিমূলক প্ররোচনায় নিজেদের জড়িয়ে ফেলে চলছি অন্ধকারের পথে।

আসলে আমাদের অজ্ঞতার কারনে আমরা বুঝতে পারছি না, এই সব ঠুনকো অযুহাতের চেয়ে অনেক অনেক অনেক বেশি কঠিন হলো নরকবাস বা জাহান্নাম।

তবে যদি প্রশ্ন করেন, আল্লাহ্ তা,য়ালা যদি আমাদেরকে জাহান্নামেই দিবেন তবে কেন স্বযতনে সৃষ্টি করলেন ?
তার জবাবে বলবো,
আপনি আমি যদি অর্থ উপার্জনের জন‍্য ব‍্যবসা করে নিজে নিজে ভাবতে পারি ? এ বছর পেঁয়াজ রাখি দেখবো আগামী বছর কেমন ব‍্যবসা হয় ?

বছর বাদাম
এ বছর পাট কাপর মুদি নানান ধরনের সামানের দোকানদারী করতে পারি।
তবে আমার আল্লাহ্ কেন পারে না সে পরিক্ষা করতে যে আমার বান্দারা দেখি কে আমার কথা শুনে আর কে শুনে না ?
আমার আপনার আল্লাহ্ অবশ‍্যই পরিক্ষা করতে পারেন।
আমার আপনার আল্লাহ্ আমার জন‍্য আপনার জন‍্য কি দেয়নি ?

আপনি যদি বলেন আপনি নিম্নবিত্তের অভাবী মানুষ। আপনার প্রশ্ন আল্লাহ্ আমাকে কেন অভাবে রাখলেন ?
তবে আপনাকেই বলছি, শুনুন আপনি অনেক টাকার মালিক না হতে পেরে কষ্ট পাচ্ছেন। আপনি জানেন না যে আপনি আল্লাহ্ তা,য়ালার কত বড় নেয়ামত।
আপনি জানেন না আপনার উপর হজ্ব ফরজ হয়নি।
আপনি জানেন না আপনার উপর যাকাত ফরজ হয়নি।
আপনি জানেন না আপনি অভাবে থেকেও যখন নামাজে সিজদা দেন, পানাহার বন্ধ রেখে রোজা বা সওমে ব্রত হন। আপনার আল্লাহ্ সুবহানাহু তা,য়ালা ফেরিস্তাদের ডেকে ডেকে আপনাকে দেখিয়ে হাশর ময়দানে আপনাকে উত্তম যাযা দানের প্রতিশ্রুতি দেন।
ভেবে দেখেছেন অপনার অভাব আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ?
আপনার অভাব মুসলিম উম্মাহর জন‍্য উপমা। আপনি ময়লা-ছেড়া পোষাকে যখন নামাজে রত হন, বা মসজিদ মুখি হন তখন অন‍্য অনেক বিত্তশালী দুনিয়াতেই সাক্ষী হয়ে বলে, না-রে উমুক যত কষ্টেই থাকুক নামাজ ছাড়ে না। লোকটা নামাজী।
নামাজ আদায় না করা সুদি বা কোন দ্বীন বিদ্বেষী যখন আপনার পক্ষে সাক্ষী হয় তখন তার জন‍্য আপনি উদাহরণ। এতে করে যদি আপনার সারা জীবনে একজন দ্বীনহীন মুসলমান দ্বীনে ফিরে আসে এই ভেবে, ওর কিছু বলতে তেমন কিছু নেই তবুও নামাজে থেকে কি সুন্দর হাসিখুশি থাকে ? অথচ আমার এত অত সম্পদ থাকতেও কেন সুখ নেই ?
দেখিতো ওর মতো মসজিদ মুখি হয়ে জীবনে শস্তি পাই না কি?
এমন কোন ঘটনায় যদি ঐ লোক মসজিদে থেকে যায়, নামাজে থেকে যায় ?
ভেবে দেখেছেন ঐ লোকের কারনে কত সওয়াব আপনার আমলনামায় জমা হবে ? আপনি কল্পণাও করতে পাবেন না। অভাব আপনার জীবনের কত বড় আর্শীবাদ।
তার উপর যদি আলহামদুলিল্লাহ্ বলে শুকরিয়ার সাথে থাকতে পারেন, তাহলে বলবো মহান রব্বে কারীম বলেছেন ইন্নাল্লহা মা,য়াছ ছবেরিন। আল্লাহ্ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
এবার ভাবুন তো মহা মহিয়ান মহান আল্লাহ্ নিজেই যখন আপনার।
তখন কেন এত হায়-হুতাশ।

(চলবে)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Amir Hossen
Customized BY NewsTheme