1. webprominhaz@gmail.com : Admin :
  2. Aktar@gmail.com : AKTAR hosen : AKTAR hosen
  3. amirbinsultan95@gmail.com : Amirbin Sultan : Amirbin Sultan
বিজ্ঞপ্তি :
  • পরীক্ষামূলক সম্প্রচার
শিরোনাম :
কক্সবাজার জেলার কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মনোনীত হলেন পুসাহ’র উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত | দৈনিক জাগ্রত বিবেক ঢাকাস্থ বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির ১ লাখ টাকা অনুদান তাকওয়া ফাউন্ডেশন বরুড়া উপজেলা শাখার লাশ দাফন টিম ২ এর ৩৫ তম গোসল কাফন জানাজা দাফন সম্পন্ন। আত্মপরিচয় ও আমাদের হীনমন্যতা | মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীন টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা ওরাই আপনজন সংগঠন | দৈনিক জাগ্রত বিবেক সমাজ সংস্কার-৩য় পর্ব | আব্দুল আজিজ অপসংস্কৃতি রোধে চাই সম্মিলিত প্রয়াস: মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন | জাগ্রত বিবেক কী পড়বো? তোফায়েল গাজালি | জাগ্রত বিবেক কৃতিত্বের মানদণ্ডে শেখা না কি শেখানো: রমিজ উদ্দিন

ষাটগম্বুজ মসজিদ এক নজরে- আব্দুল আজিজ

  • আপডেট টাইম : Tuesday, December 8, 2020
  • 142 বার পড়া হয়েছে

‘ভ্রমনগল্প’ ষাটগম্বুজ মসজিদ
আব্দুল আজিজ

আমাদের বাংলাদেশে বিশ টাকা মানের কাগজীয় মূদ্রার মাঝে একটা ছবি বেশ কিছু বছর আগে থেকেই দেখে আসছি। তা হলো ষাটগম্বুজ মসজিদ। তবে বাগের হাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ কি সত‍্যিই ষাটগম্বুজ ? আজকের ভ্রমন গল্পে তার কিছুটা বিষদ বর্ণনা করার চেষ্টা করবো। তো পাঠকগণ চলুন একটু শুরু থেকে শুরু করি। খুলনা বাগের হাটের নাম হয়তো বাংলাদেশের এমন কোন অঞ্চল নেই যেখানে প্রসিদ্ধ  নয়। তবে হ‍্যাঁ অনেকে নাম জানলেও অনেকের এখনো যাওয়া হয়নি ঘুরে দেখা হয়নি সে প্রায় (১৫০০) পনের শতাব্দীর ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদটি।

বাংলাদেশ এখন আর সে দেশ নয়। ভাত দে নয়তো মাথা চিবিয়ে খাবো।

বাংলাদেশ এখন চলে এসো এইতো আসছি পর্যায়ে।
দেশের যোগাযোগ ব‍্যবস্থা খুবই ভালো। আপনি দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে আসতে পারবেন এই খুলনার বাগের হাট এলাকায়। আমি আপনাকে ঢাকার ডিরেকশন বলছি। গুলিস্থান অথবা সায়দাবাদ বা মহাখালি ইয়ারপোর্ট আব্দুল্লাহ পুর মিরপুর বেশ কিছু যায়গা থেকে গাড়ী পাবেন। কিছু কিছু যায়গা থেকে সরাসরি খুলনা যেতে পারবেন। ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসলে ঢাকা থেকে মাওয়া শিমুলিয়া আসলেন। সেখান থেকে সীবোট লঞ্চ বা ফেরি করে পার হয়ে কাঠাল বাড়ী ঘাট। কাঠাল বাড়ী ঘাট থেকে আপনি খুলনা না গিয়ে নেমে পরুন কাটাখালি ষ্টানে। ষ্টানটি একটি তে-মোড়া সড়ক জংশন। একদিক দিয়ে যেতে পারবেন খুলনা হয়ে যশোর।

আর যাদের যশোর যাওয়া আসা আছে তারা তো অবশ‍্যই জানেন যশোর থেকে যেতে পারবেন বেনাপোল এবং সেখানের কাষ্টম পার হলে তো রোড টু কলকাতা। যেমনি যেতে পারবেন ঠিক তেমনি ঐ পথে পথে এলেই দেখতে পাবেন খুলনা বাগের হাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। কাটা খালির অন‍্য একরাস্তা দিয়ে ফিরতে পারবেন ঢাকা। অন‍্য রাস্তা ধরে গেলে পাবেন মোংলা সুমুদ্র বন্দর।

ষাট গোম্বুজ মসজিদ নিয়ে শুনে আসা কথা আমার কাছে ভিন্ন মনে হলো তখন যখন ওখানের যাদুঘরে ষাট গোম্বুজ মসজিদের ড‍্যামি দেখলাম। কারন ড‍্যামিতে দেখানো হয়েছে গোলাকার গোম্বুজের সংখ্যা সত্তরটি আর এই সত্তর গোম্বুজ দুই ভাগে ভাগ উত্তর দখিন করে। এর ভাগের মাঝে রয়েছে আরো সাতটি চতুর্কোণ গোম্বুজ এবং মসজিদটির চার কর্ণারে রয়েছে তুলনামুলক একটু ছোট হলেও চারটি গম্বুজ তো ছোট বড় সব মিলিয়ে একাশিটি গম্বুজ নিয়ে মসজিদটি দাড়িয়ে আছে শত শত বছর ধরে।

তবে হ‍্যাঁ মসজিদের ভিতরে মোট ষাটটি পিলার আছে। যাদের ধারনা প্রতেক পিলারের মাথায় একটি করে গম্বুজ রয়েছে। ঠিক তাদের ভাবনা অনযায়ী মসজিদটি ষাট গম্বুজের। আসলে ধারনাটি ভুল। সংখ্যাটি নিতান্তই মুখ‍্য না হলেও। শোনা কথা এবং ড‍্যামি নকশাঁয় মিল না থাকলেও, স্থানটি দর্শনীয়। জমির উপর তৈরি করা। তৈরি নিয়েও কিছু গালগল্প আছে কারন সে পনের শতাব্দীর দিকে তৈরি এই মসজিদের ইট বালু সিমেন্ট বা কাজের মিস্ত্রি আসবাব কোথায় কিভাবে পেল এটা নিতান্তই ভাবনার বিষয়। তবে আমি ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে দেখলাম অনেকেই বর্ননা করেছেন এইভাবে” ধারনা করা হয় ” বা “ধরে নেওয়া হয়” যদিও এই বাক‍্যগুলি কখনোই নিশ্চিত ভাবে কিছু বুঝায় না। তবুও বলতে এবং মানতে হয়। তার বেশ কারন হলো দেয়াল বা মসজিদের গাঁথুনি কারুকাজ অবশ‍্যই প্রমান করে এই মসজিদ মূঘল যুগের। ঘটনাটা অবশ‍্যই অলৌকিক। তার প্রধান কারন ঐ সময়টাতে ঐ যায়গাটি ছিলো বন‍্য লোকালয় নয়। সেহেতু রাস্তাঘাট ছিলো পায়ে চলা। ঠিক ঐ সময়ে এমন সুন্দর কাজ অবশ‍্যই কল্পনার বাস্তব রুপ। মসজিদের সিমানা বা প্রবেশ ফটক বেশ চওড়া। প্রবেশ ফটকের পাশে টিকিট কাউন্টার।

দেশি পর্যটকদের জন‍্য টিকিট মাত্র বিশ টাকা। সার্কভূক্ত দেশের জন‍্য এক শত টাকা এর বাইরের দেশের পর্যটকদের জন‍্য টিকিট মুল‍্য দুই শত টাকা। মসজিদের উপরের গোম্বুজ যেমন তেমন আমি বাহিরের তিন দিক ঘুরেই বাহিরে থেকে ভেতরটা দেখার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে বেশ উজ্জল মনোরম এফং দৃষ্টি নন্দনই মনে হয়েছে। পাশে আছে খোলা যায়গা লোকজন বেশি হলে এক সাথে বসে আড্ডা দেয়া যাবে। বাচ্চাদের জন‍্য রয়েছে মিনি পার্কের মতো খেলার সামগ্রী। মোটামুটি একটা ভালো যায়গা নিয়ে বনাঞ্চলের মতো সাজানো গাছপালা ফাঁকে ফাঁকে কাঠের বেঞ্চ দেওয়া আছে।

বসে বিশ্রাম নিতে পারবেন। সাথেই আছে থাকার জন‍্য গেষ্ট হাউস যা সকলেই সিমিত নির্ধারিত ভাড়ায় রাত্রী যাপন করতে পারবেন। আছে যাদুঘর সেখানে রাখা আছে ড‍্যামি মসজিদ। আছে খাজা খানজাহান আলীর ব‍্যবহৃত কিছু লোটা ঘটি বাটি। আছে কুমিরের মাটির তৈরী ড‍্যামি কিছু সে পূরানোদিনের কারূকাজের নকশাঁ। যাদের প্রত্নত্ত্ব সম্পর্কে জানার আগ্রহ আছে। বলবো ঘুরে আসতে পারেন একবার।

মসজিদ থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরেই খাজা খানজাহান আলীর মাজার মোবারক।
সামনেই সে বিশাল দিঘি যেখানে বলাহয় কালো পাহাড় ধলা পাহাড় নামে দুটি কুমির ছিলো। স্থানীয়দের মুখে শোনা যায় খাজা খানজাহান আলী ঐ কুমিরের পিঠে আরোহন করেই এখানে এসেছিলেন। সে থেকে কুমির এখান থাকে এবং ওদের দেখভালের জন‍্য সে এখানেই বেশি সময় দিতেন।
ঠিক মাজার চত্তরে তেমন কোন বড় গাছ নেই তবে মাজারের ভেতরটা বেশ ঠান্ডা।

মাজারের সিমানায় ঢুকতেই ছোট একটু খোলা যায়গা। মাজার সিমানার দখিন দিক চেপে ভেতরে ঢুকার পথ। সিমানার উত্তরের দেয়াল ঘেসে মসজিদ তারপর খাদেমের মাজার তারপর মূল মাজার। মাজারের ভেতরের মূল অংশ কালো গেলাপে ঢাকা। খাদেমকে এই মাজারের বয়স সম্পর্কে জানতে চাইলে বলল। গেলাপের নিচে খোদাইকরে আরবী ভাষায় লেখা আছে। যা আমরা পড়তে পারি না। বুঝিও না। মাজারে প্রধান ফটক বরাবর ঐতিহাসিক দিঘিতে উঠা নামা করার সিড়ি। যে দিঘিতে এখনো সে কুমিরের বংশধরেরা বেচেঁ আছে। মাজার থেকে দিঘিতে নামার যে লম্বা লম্বা সারি সারি পাকা সিড়ি করা আছে তার মধ‍্যে ফটক বরাবর সিড়ি গুলি দিঘির জল ঘেসে সাদা টাইলস বসানো। সিড়ির পাশে মাঝে মধ‍্যে রয়েছে বিশাল বিশাল গাছ যা ঐ সিড়িগুলিকে ছায়ায় আচ্ছাদন করে রেখেছে। তবে শোনা যায় ঐ কুমির মাঝে মাঝে দিঘির পারের গ্রামে উপরে এসে বসে থাকে। তখন তাদেরকে সেখানেই খাবার পৌছে দেয়া হয়।

অনেক দূর দুরান্ত থেকে এখানে অনেক পর্যটক আসে। মাজারের গেটেই রয়েছে মায়ের দোয়া খাবারের হোটেল। মোটামুটি খেতে পারবেন। আর একটু ভালো খেতে চাইলে চলে যাবেন বাজারে সেখানে খেতেও পারবেন মনের মনের মতো থাকার জন‍্য রয়েছে অনেক হোটেল আছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হোটেল।সব মিলিয়ে একটি ভালো দর্শনিয় স্থান।

এলাকাটিতে রয়েছে অনেক মাছের ঘের। দেখতে পারবেন মাছ চাষের ব‍্যবস্থাপনা। গ্রামের মাঝে মাঝে খাল খনন করা আছে। যে খালে পানিতে জোয়ার ভাটা হয়। এলাকাটা বেশ সবুজ শ‍্যামল ও ছায়াঘেরা। পরিবেশটা আমার কাছে দারুন লেগেছে। আপনারাও ঘুরে আসতে পারেন বাগেরহাটের একাশি ষাট গোম্বুজ মসজিদ এবং খাজা খান জাহান আলীর মাজার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 Amir Hossen
Customized BY NewsTheme